সিম্পল লগোর জন্য শাওমির খরচ ২.৫ কোটি টাকা?

বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে চীন ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। আর কিছুদিন পরেই ১১ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছে শাওমি। ১১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই সম্প্রতি কোম্পানিটি তাদের ব্র্যান্ড পরিচিতি পরিবর্তে ঘোষণা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নিজেদের নতুন লোগো ও ব্র্যান্ড কিট উন্মোচন করেছে শাওমি। শাওমির জন্য নতুন এই ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি ডিজাইন করেছেন জাপানীজ ডিজাইনার কেনায়া হ্যার। নতুন লোগো ও ব্র্যান্ড কিট ডিজাইন করার জন্য ডিজাইনারকে ৩ লাখ ডলার পারিশ্রমিক দিয়েছে শাওমি।

এদিকে শাওমির এই নতুন ব্র্যান্ডিং নিয়ে নেটিজনেদের মাঝে চলছে হাসি-ঠাট্টা। অনেকে বলছেন, পুরাতন লোগো এবং নতুন লোগোর মধ্যে তেমন বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। যদিও নেটিজনদের এই সমালোচনা অনেকটা যোক্তিক, কেননা শাওমির নতুন লোগোতে ব্যাগ্রাউন্ডের শেপ স্কোয়ারের পরিবর্তে কিছুটা রাউন্ডেড করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এতো সিম্পল পরিবর্তনের জন্য ডিজাইনারকে এতো টাকা পারিশ্রমিক দিলো শাওমি?

ওয়েল! এই লোগোর পেছনে এতো টাকা ব্যয় করার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং নতুন লোগোর কনসেপ্ট ফিলোসফি। শাওমির নতুন এই লোগোর ডিজাইনার ‘কেনায়া হ্যার’ বিষয়টি ব্যাক্ষা করে বলেন, এই ডায়নামিক লোগো ডিজাইনের মূল মন্ত্র বা কনসেপ্ট ছিল ‘আলাইভ’ (জেগে উঠা)।

অর্থাৎ আগামীতে গ্রাহকদের কাছে প্রাণবন্ত ও তারুণ্যে ভরপুর ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেতে চায়। এই কনসেপ্টকে মাথায় শাওমি তাদের লোগোকে প্রথমবারের মতো ডায়নামিক লোগোতে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘কেনায়া হ্যার’ আরও বলেন, এই লোগোটি দেখতে যেন ‘ভিজ্যুয়াল অপ্টিমাল ডায়নামিক’ হয় সেজন্য এটি পার্ফেক্ট ব্যালান্স করতে আমাদের বিভিন্ন গাণিতিক সূত্র, অনেক হিসেবে নিকেশ এবং ডিজাইনিং রুল ও রেশিও প্রয়োগ করতে হয়েছে। আমরা এবার শাওমির জন্য লোগোমার্ক এবং লোগোটাইপ, এই দুই ধরণেরই লোগো ডিজাইন করেছি। উভয় লোগোতেই আমরা নতুন টাইপোগ্রাফি ও কালার ফিলোসফি ব্যবহার করেছি।

অন্যদিকে শাওমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমাদের এই নতুন লোগোটি ডায়নামিক হওয়ায় এটি এখন পার্ফেক্ট এলাইনমেন্ট ছাড়াই প্রোডাক্ট ও কন্টেন্টের যেকোনো পজিশনে ব্যবহার করা যাবে। শাওমি বিশ্বাস করে, নতুন লোগোর সাথে তারা আগামীতে বহির্বিশ্বে একটি প্রিমিয়াম প্রযুক্তি মার্কেটে জায়গা করে নিতে পারবে। যার ফলস্বরূপ আগামীতে আরও প্রিমিয়াম পণ্য বাজারে আনতে পারে শাওমি। গুঞ্জন রয়েছে, ভবিষ্যতে ইলেক্ট্রনিক গাড়ি বাজারে আনাতেও নাকি কাজ করেছে শাওমি।