আইওএসের তুলনায় অ্যানড্রয়েড ২০গুন বেশি ডাটা সংগ্রহ করতে পারে

একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইন্টারনেট যত দ্রুত প্রসার লাভ করেছে ঠিক তত দ্রুতই ইন্টারনেট সম্পর্কিত নিত্যনতুন সমস্যা এসে হাজির হয়েছে। সম্ভবত এই সমস্যার মধ্যে সবথেকে আলোচিত সমস্যা হলো অনলাইন জগতে গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা।

একসময় হ্যাকররা অনুমতি ছাড়া গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করলেও এখন বিখ্যাত সব টেক জায়ান্টরা এই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। একে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজের গবেষক ডগলাস লেইথ একটি জরিপ চালিয়েছেন।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড এবং অ্যাপলের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে করা এই জরিপে ফুটে ওঠে অ্যাপল তাদের আইওএস প্ল্যাটফর্ম থেকে ইউজারদের যতটা ডেটা সংগ্রহ করে, গুগল নিজেদের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে তার থেকেও ২০ গুন বেশি ডেটা সংগ্রহ করে। ইউজারদের এসব ডেটার মধ্যে রয়েছে লোকেশন, ডিভাইস ইনফো, আইএমই‌আই, কন্ট্যাক্টস এর মত স্পর্শকাতর তথ্য।

ডগলাস লেইথ জানিয়েছেন, ব্যবহারকারী গুগল কিংবা অ্যাপল অ্যাকাউন্টে লগিন না করলেও তথ্যগুলো আগের মতই কোম্পানির নিজস্ব সার্ভারে জমা হতে থাকে। এমনকি সেটিংসে সামান্য পরিবর্তন কিংবা সিম কার্ড পাল্টানোর মত তথ্য কোম্পানিগুলোর অজানা থাকে না।

এই জরিপের জন্য ডগলাস লেইথ পিক্সেল স্মার্টফোন এবং একটি আইফোন ব্যবহার করেছেন। দুটি ফোনই গড়ে ৪.৫ মিনিট ব্যবধানে তথ্য পাঠিয়ে থাকে। গুগল এই তথ্য সংগ্রহের জন্য ক্রোম ব্রাউজার, ইউটিউব, গুগল ডকস, ক্লক এবং সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে।

অন্যদিকে অ্যাপল ব্যবহার করে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি, সাফারি ব্রাউজার এবং আইক্লাউড সার্ভিস। প্রতি দশ মিনিটের ব্যবহারে গুগল ১ মেগাবাইট এবং অ্যাপল ৪২ কিলোবাইট তথ্য সংগ্রহ করে। অপরদিকে ফোন ব্যবহার না করে প্রতি ১২ ঘন্টায় গুগল ১ মেগাবাইট এবং অ্যাপল ৫২ কিলোবাইট তথ্য সংগ্রহ করে।

উল্লেখ্য, এই গবেষক কেবলমাত্র কোন কোম্পানি কতটুকু ডেটা সংগ্রহ করে সেটা উল্লেখ করেছেন। সাধারণত এসকল ডেটা ব্যবহার করেই বর্তমান অপারেটিং সিস্টেমের ত্রুটি শনাক্ত করা হয়ে থাকে এবং পরবর্তীকালে এর মাধ্যমেই নতুন আপডেট প্রকাশ করা হয়।